
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা গেলেও সর্বশেষ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়ার পর বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির পথ যাচাই করার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে পতন দেখা যায়। বৈশ্বিক মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে নেমে আসে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও তেলের দাম কমেছে। সেখানে লেনদেন হওয়া তেলের মূল্য ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিতে বাজারে সংশোধন শুরু হয়।
এই উত্তেজনার মূল কেন্দ্র ছিল Strait of Hormuz, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান প্রতিশোধের হুমকি দিলে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।
তবে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে এবং এতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় রাখতে দেশটির বন্দরগামী জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা হবে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান Saxo Bank-এর কৌশলবিদ চারু চানানা মনে করেন, এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায় ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছে। তবে এটি এখনই বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়।
তার মতে, বাজারের মূল নজর এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে কি না—সেই প্রশ্নে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রাথমিক সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় এবং একটি চুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগ্রহী।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ আগে জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে এবং ইরান এখনো তার প্রতিক্রিয়ার শুরুতেই রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক তেলের বাজার এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে তেলের দামের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।