
চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১২০টি হজ ফ্লাইটে মোট ৪৭ হাজার ৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেছেন ৪২ হাজার ৯৬৯ জন। প্রতি বছরই সরকারি ও বেসরকারি—এই দুই ব্যবস্থার মাধ্যমে হজযাত্রী পাঠানো হয়।
তবে এ বছরের হজযাত্রায় এখন পর্যন্ত ১০ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বুলেটিন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৮ জন মক্কায় এবং ২ জন মদিনায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে দুইজন নারীও রয়েছেন।
হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনটি এয়ারলাইনস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে Biman Bangladesh Airlines-এর ৫৫টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৩৮ জন যাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন।
এছাড়া Saudia-এর ৪৪টি ফ্লাইটে ১৬ হাজার ৫০৮ জন এবং Flynas-এর ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৯৪ জন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের অনুমতি পেয়েছেন। এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় মোট ৬৬০টি হজ এজেন্সি কাজ করছে। এর মধ্যে ৩০টি প্রধান এজেন্সি এবং ৬৩০টি সমন্বয়কারী এজেন্সি রয়েছে।
হজযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় গত ১৭ এপ্রিল রাতে। ওইদিন Hazrat Shahjalal International Airport থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট (বিজি৩০০১) জেদ্দার King Abdulaziz International Airport-এর উদ্দেশে যাত্রা করে। এতে ৪১৯ জন হজযাত্রী ছিলেন।
হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোট হজযাত্রীর মধ্যে ৪ হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করবেন।
এদিকে, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে। ওইদিন জেদ্দা থেকে প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। আর হজযাত্রীদের দেশে ফেরার শেষ ফ্লাইট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ জুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজ ব্যবস্থাপনা একটি বিশাল ও জটিল কার্যক্রম, যেখানে যাত্রী পরিবহন, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা—সব কিছুই সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হয়।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সব মিলিয়ে, এ বছরও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তবে একই সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।