প্রিন্ট এর তারিখঃ May 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 5, 2026 ইং
আল্লাহভীতির অশ্রু: কোরআনে বর্ণিত মুমিনের কান্না

মানব জীবনে হাসি-কান্না দুটি স্বাভাবিক অনুভূতি হলেও ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মুমিনের কান্নার রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহই মানুষকে হাসান এবং তিনিই কাঁদান, যা মানুষের অনুভূতির উৎসও আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
মুমিনের জীবনে কান্না কেবল দুঃখের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং তা আল্লাহভীতি, অনুতাপ, সত্য উপলব্ধি এবং ঈমানি আবেগের প্রতিফলন। কোরআনে বিভিন্ন স্থানে মুমিনদের কান্নার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে, যেমন কোরআন তিলাওয়াতের সময় আবেগে কাঁদা, সত্যের সন্ধান পেয়ে আনন্দে অশ্রু ফেলা, কিংবা কোনো কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করা।
একইভাবে নবী-রাসুলদের জীবনে কান্নার উদাহরণও পাওয়া যায়, যা তাদের গভীর আল্লাহভীতির প্রকাশ। বিশেষ করে ইয়াকুব (আ.)-এর দুঃখে অশ্রুসিক্ত হওয়ার ঘটনা মানবিক অনুভূতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তবে ইসলাম মিথ্যা বা প্রতারণামূলক কান্নাকে সমর্থন করে না, বরং আন্তরিকতা ও সত্যনিষ্ঠ কান্নাকেই মূল্য দেয়। কোরআনে বলা হয়েছে, উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণে যারা আল্লাহকে ভুলে থাকে, তাদের হৃদয় কঠিন হয়ে যায় এবং তারা কান্নার অনুভূতি হারিয়ে ফেলে।
সার্বিকভাবে, ইসলামে কান্না শুধু আবেগ নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, অনুতাপ এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই মুমিনের কান্না তার ঈমানি জীবনের সৌন্দর্য ও আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা