
নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের পানতিতা খেয়াঘাট থেকে টেপারি গ্রাম অভিমুখী প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকা করার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, Local Government Engineering Department (এলজিইডি) এবং Bangladesh Water Development Board (পাউবো)-এর মধ্যে মতবিরোধের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গেছে, কোথাও কাদা, কোথাও আবার খোয়া উঠে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা কেউ জুতা হাতে নিয়ে হাঁটছেন, কেউ মোটরসাইকেল ঠেলে পার হচ্ছেন, আবার কেউ কাঁধে বাইসাইকেল তুলে নিচ্ছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফকির এন্টারপ্রাইজ কাজের দায়িত্ব পায় এবং অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই তা বন্ধ হয়ে যায়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, এলজিইডির অনুমোদন নিয়েই তারা কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাঝপথে পাউবো জানায়, ওয়াপদার আওতাধীন এই সড়কে কাজ করতে হলে তাদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রয়োজন। এরপর এলজিইডি এনওসি নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও ততদিনে একই সড়কে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাউবোর একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ফলে ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সংস্থাকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানির কারণে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই কাঁচা সড়কটি পাকা করার। কাজ শুরু হওয়ায় আশাবাদী হলেও এখন তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশা বাড়ছে। অন্যদিকে, সড়ক খুঁড়ে রেখে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি সড়ক পরিদর্শনে এসে পাউবোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডা হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হলেও এখন মালামাল নষ্ট হচ্ছে এবং বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাউবোর বাঁধের ওপর কাজ করতে হলে তাদের অনুমতি প্রয়োজন, যা আগে নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে পাউবোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের চলমান প্রকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে দুই দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ থেমে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, আর দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।