
সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরের বিভিন্ন অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও প্রকল্পের কার্যক্রম এবং অর্থব্যয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই অডিট রিপোর্টগুলো পেশ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, মোট ৩৮টি অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব রিপোর্টে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলোর কমপ্লায়েন্স ও পারফরম্যান্স অডিটের ফলাফল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
Nurul Islam প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। রিপোর্টগুলো ১৭টি মন্ত্রণালয় ও তাদের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, দপ্তর, প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
এই অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে সরকারি অর্থব্যয়ের কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে কি না তা মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি কমপ্লায়েন্স অডিটের মাধ্যমে আইন ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না সেটিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৮(১) এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (অ্যাডিশনাল ফাংশন্স) অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৫ অনুযায়ী এই অডিট রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে।
এই রিপোর্ট পেশের সময় প্রধানমন্ত্রী সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ ব্যবহারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপচয় যেন না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকা প্রয়োজন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী পারফরম্যান্স অডিটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলেন, যাতে প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল মূল্যায়ন করা যায় এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
অডিট রিপোর্টে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং সেবা প্রদানের মান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে সুপারিশও প্রদান করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা অডিট রিপোর্টের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে উন্নত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অডিট রিপোর্ট সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করতেই সাহায্য করে না, বরং ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে।
সব মিলিয়ে, ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি অডিট রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন সরকারি অর্থব্যয়ের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।