
ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি-র ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর এই আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক সামিম হাসান ১০ আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত দুই আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করে বাকি আটজনের রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন মো. সারাফাত হোসেন (২৪) ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভ। অন্যদিকে কারাগারে পাঠানো আট আসামির মধ্যে রয়েছেন শাহাদাত তৌফিক, মো. ইমাম হোসেন বিজয়, মো. রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, মো. আব্দুল্লাহ ফাহিম এবং মো. ইমরান।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তারা দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রাম-এর বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই প্রতারণা চক্র পরিচালনা করতেন।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী বিলাল হোসেন। মামলার পর বাংলাদেশ পুলিশ-এর বিভিন্ন ইউনিট যৌথ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের শেরশাহ কলোনি এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ড. আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করত।
পরবর্তীতে সেই ভুয়া ভিডিওতে তার কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামের একটি যৌন উত্তেজক পণ্যের প্রচারণা চালানো হতো। সাধারণ মানুষ বক্তার প্রতি আস্থা রেখে এসব পণ্য অর্ডার করতেন।
চক্রটি ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এসব ভিডিও প্রচার করত। পরে ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ড. আজহারী দেশের বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি তার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও সরলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল।
ঘটনাটি দেশের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল প্রতারণা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।