
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রদান করতে Bogura জেলায় অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বগুড়া সদর এলএসডিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য Rezaul Karim Badsha।
জেলা প্রশাসক Razia Sultana-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খাদ্য ও কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ। এছাড়া কৃষি কর্মকর্তা, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বগুড়া জেলায় বড় আকারে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছর মোট ১৭ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন ধান, ৭২ হাজার ৬০২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ধান প্রতিকেজি ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকায় সংগ্রহ করা হবে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
এবারের সংগ্রহ কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে ‘কৃষক অ্যাপ’ এবং কৃষি বিভাগের তালিকা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত করে তাদের কাছ থেকেই সরাসরি ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়ম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, অতীতে অনেক সময় তারা তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পেতেন না। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে লাভের বড় অংশ হাতছাড়া হয়ে যেত। তবে এবার সরকারের সরাসরি সংগ্রহ উদ্যোগ তাদের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে। তারা মনে করছেন, এই কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হবে।
এই সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে সংগ্রহ প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে এবং বাজারে ধানের দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এই কার্যক্রম বড় ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, বগুড়ায় শুরু হওয়া এই বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম কৃষকদের জন্য যেমন ইতিবাচক, তেমনি দেশের সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।