
আসন্ন Eid al-Adha উপলক্ষে দেশের ঘরমুখো মানুষের যাত্রা সহজ ও স্বস্তিদায়ক করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে Bangladesh Railway। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে অগ্রিম ট্রেনের টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেলওয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এদিন ২৩ মে যাত্রার টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। পরবর্তী দিনগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন তারিখের টিকিট বিক্রি করা হবে। ১৪ মে পাওয়া যাবে ২৪ মে যাত্রার টিকিট, ১৫ মে পাওয়া যাবে ২৫ মে’র টিকিট, ১৬ মে পাওয়া যাবে ২৬ মে’র টিকিট এবং ১৭ মে বিক্রি করা হবে ২৭ মে যাত্রার টিকিট।
এই ধাপে ধাপে টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে এবং যাত্রীরা সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। বিশেষ করে ঈদের সময় ট্রেনের টিকিট পাওয়া নিয়ে যে ভোগান্তি তৈরি হয়, তা কমাতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—সব টিকিট শতভাগ অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। অর্থাৎ কোনো কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার সুযোগ থাকবে না। এতে করে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ যাত্রীরা সরাসরি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী টিকিট কিনতে পারবেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট বিক্রি শুরু হবে দুপুর ২টা থেকে। এই সময় বিভাজনের মাধ্যমে সার্ভারের ওপর চাপ কমানো এবং ব্যবহারকারীদের জন্য সিস্টেমকে আরও স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
টিকিট ক্রয়ের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও রাখা হয়েছে। একজন যাত্রী ঈদের অগ্রিম যাত্রা এবং ফেরত যাত্রার জন্য সর্বোচ্চ একবার করে টিকিট কিনতে পারবেন। প্রতিবার তিনি সর্বোচ্চ চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। এর ফলে অতিরিক্ত টিকিট সংগ্রহ করে কালোবাজারে বিক্রির প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—ঈদের অগ্রিম ও ফেরত যাত্রার কোনো টিকিট রিফান্ড করা যাবে না। অর্থাৎ একবার টিকিট কাটা হলে তা বাতিল বা ফেরত নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই সিদ্ধান্ত যাত্রীদের আগেই ভেবে-চিন্তে টিকিট কেনার বিষয়ে সচেতন করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর ফলে গত কয়েক বছরে রেল সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। যাত্রীরা এখন ঘরে বসেই সহজে টিকিট কিনতে পারছেন। তবে ঈদের সময় সার্ভার সমস্যা, অতিরিক্ত চাহিদা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে—এ বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেন ভ্রমণকে আরও নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও ঝামেলামুক্ত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। যাত্রীদেরও উচিত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দ্রুত টিকিট সংগ্রহ করা এবং যাত্রার পরিকল্পনা আগেই ঠিক করে রাখা।