
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেল-এর দাম একদিনে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪.৪৪ ডলারে পৌঁছায়। যদিও পরবর্তীতে কিছুটা কমে মঙ্গলবার ভোরে তা দাঁড়ায় ১১৩.৫৪ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতার মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা সংকট। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হওয়ায় এখানে কোনো উত্তেজনা দেখা দিলে সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তারা ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে, যা পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে এসব অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে উদ্ধৃত করে সামরিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌকা ধ্বংসের দাবি সম্পূর্ণ “মিথ্যা ও ভিত্তিহীন”।
বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দাম সরাসরি প্রভাব ফেলে পরিবহন, উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ খাতে। তাই এ ধরনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী যদি দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিতিশীল থাকে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়বে।
এছাড়া জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি অনুভব করবে।
বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এমনিতেই বিভিন্ন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।a