
দেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে সফল প্রতিষ্ঠান হিসেবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর স্বপ্ন ও উদ্যোগে গঠিত এই প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ বিদ্যুতায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
সোমবার (৩ মে) সকালে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় আরইবির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড দেশের বিদ্যুৎ বিভাগের একটি সফল ও কার্যকর মডেল। এই মডেলের কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, তাই এটি নিয়ে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে আরইবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ শিল্প বিকাশ এবং জীবনমান উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠান সরাসরি অবদান রাখছে।
সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের নির্দেশ দেন এবং যেসব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এখনো লাভজনক অবস্থায় পৌঁছায়নি, তাদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই ক্রস-সাবসিডি পদ্ধতিতে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সমস্যার প্রকৃত কারণ জনগণকে জানানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এস এম জিয়া-উল-আজিম। তিনি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আরইবি ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোকে একযোগে কাজ করে সেবার মান আরও উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সুবিধার বৈষম্য কমিয়ে আনা।
সব মিলিয়ে, সরকারি এই মূল্যায়নে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে দেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে সফল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা গ্রামীণ উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।