
রংপুরে সাবেক এক জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত নুর আলম (৫৬)-কে সোমবার (৪ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তাকে মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে নুর আলম আত্মগোপনে ছিলেন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি মাঝে মাঝে প্রকাশ্যে আসছিলেন বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, গত এক দশক ধরে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রভাব ব্যবহার করে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। তার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আনন্দ-উল্লাস দেখা যায় এবং স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের অভিযোগ, নুর আলম চেয়ারম্যান পদে থাকার সময় সরকারি সম্পদ ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, সরকারি রাস্তার গাছ বিক্রি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর একটি সাজানো মামলায় রিমান্ডে নিয়ে নুর আলম তার পরিবারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আদায় করেন।
ভুক্তভোগী আঙ্গুর মিয়া বলেন, মিথ্যা মামলায় হয়রানি করে তার প্রায় ১০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহীন মির্জা সুমন অভিযোগ করেন, নুর আলম প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগ দমন করতেন এবং আইনের তোয়াক্কা করতেন না।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নুর আলম বা তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানা-এর ওসি মাইদুল ইসলাম জানান, নুর আলমকে সিআর ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত্যাচেষ্টা ও একাধিক সহিংসতার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৫ মে) তাকে আদালতে হাজির করা হবে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
সব মিলিয়ে, এক সময়ের প্রভাবশালী এই স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তির গ্রেপ্তার রংপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া এবং একাধিক অভিযোগ বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এনেছে।