
কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর দ্রুত বিস্তার নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা চার্লস র্যাডক্লিফ সতর্ক করেছেন যে, এআই যত দ্রুত মানুষের কাজ প্রতিস্থাপন করছে, ততই বাড়ছে চাকরি হারানোর ঝুঁকি।
তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, কোম্পানিগুলোর ওপর ‘রোবট ট্যাক্স’ বা এআই ব্যবহারের ওপর বিশেষ কর আরোপ করা উচিত। তার মতে, এই করের মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে এবং একই সঙ্গে চাকরি হারানো কর্মীদের সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
র্যাডক্লিফের নিজের কোম্পানি এমন সফটওয়্যার তৈরি করেছে, যা অফিসের প্রশাসনিক কাজ, ডেটা প্রসেসিং এবং ফর্ম পূরণের মতো কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। তিনি জানান, যে কাজ আগে একজন মানুষের করতে প্রায় দুই সপ্তাহ লাগত, এখন এআই অটোমেশন মাত্র ২০ সেকেন্ডেই সেই কাজ শেষ করছে।
এই পরিবর্তনের ফলে বড় কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বিশেষ করে অফিসভিত্তিক বা হোয়াইট-কলার চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্বের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, ভবিষ্যতে যদি এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তাহলে শ্রমবাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই কোম্পানিগুলো যখন মানুষের পরিবর্তে এআই ব্যবহার করবে, তখন তাদের কাছ থেকে বিশেষ কর নেওয়া উচিত—যাকে তিনি ‘রোবট ট্যাক্স’ নামে উল্লেখ করেছেন।
তবে এই প্রস্তাব নিয়ে সবাই একমত নন। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এআই চাকরি ধ্বংস করছে না বরং কাজের ধরন পরিবর্তন করছে। ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রোটোথার্ম-এর কর্মকর্তা অলিভার কঙ্গার বলেন, তাদের কারখানায় এআই ব্যবহারের ফলে উৎপাদনশীলতা ২০ শতাংশ বেড়েছে। তার মতে, প্রযুক্তি মানুষের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এআই নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাজ্যের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দল ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। লেবার পার্টি (যুক্তরাজ্য) সরকারি কাজে এআই ব্যবহার এবং নৈতিক এআই উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে।
অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি (যুক্তরাজ্য) মনে করছে, এআই স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি সেবার মান উন্নত করতে পারে। বিশেষ করে এনএইচএস-এর মতো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এআই বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা আশা করছে।
এছাড়া প্লাইড সাইমরু শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মীরা খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হওয়ায় ভবিষ্যতের কাজের বাজার সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু কাজ বিলুপ্ত হবে, আবার নতুন ধরনের কাজ তৈরি হবে। তবে এই পরিবর্তনের গতি যদি খুব দ্রুত হয়, তাহলে অনেক মানুষ ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
সব মিলিয়ে, ‘রোবট ট্যাক্স’ প্রস্তাবটি এখন প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং রাজনীতির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এআইয়ের সুবিধা গ্রহণ এবং মানুষের কর্মসংস্থান রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা যায়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।