
কানাডার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আলবার্টা প্রদেশ। দেশটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় একটি সংগঠন, যা পরিস্থিতিকে বেশ সংবেদনশীল করে তুলেছে।
সোমবার (৪ মে) ‘স্টে ফ্রি আলবার্টা’ নামে একটি সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে গণভোট আয়োজনের আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে আগামী অক্টোবরেই আলবার্টায় স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গণভোট আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ছিল অন্তত ১ লাখ ৭৮ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, তারা এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রায় ৩ লাখের বেশি মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। সংগঠনটির প্রধান মিচ সিলভেস্ত্রে এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের পেছনে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, অটোয়া আলবার্টার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস শিল্পের ওপর কঠোর নীতিমালার মাধ্যমে প্রদেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তবে গণভোট আয়োজনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনি জটিলতা। স্থানীয় ফার্স্ট নেশনস বা আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। তাদের আশঙ্কা, কানাডা থেকে আলাদা হলে তাদের ঐতিহাসিক অধিকার ও চুক্তিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে বর্তমানে স্বাক্ষর যাচাই প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। আদালতের রায় এই মাসের শেষ দিকে আসতে পারে বলে জানা গেছে। এর আগে একজন বিচারক এই গণভোটকে ‘বেআইনি’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এদিকে, প্রাদেশিক সরকার নাগরিকদের গণভোটে অংশগ্রহণ সহজ করতে কিছু আইন সংশোধন করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র আইনি পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়—রাজনৈতিক ও জনসমর্থনের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, আলবার্টার মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রয়েছেন। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এখনো কানাডা-এর অংশ হিসেবেই থাকতে চান।
এর বিপরীতে ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ নামে একটি পাল্টা প্রচারণায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন, যা এই ইস্যুতে জনমতের বিভক্ত চিত্র তুলে ধরে।
সবকিছু অনুকূলে থাকলে এবং আদালত অনুমোদন দিলে আগামী ১৯ অক্টোবর এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে। সেখানে ভোটারদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন রাখা হবে—তারা আলবার্টাকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গণভোট শুধু আলবার্টার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং এটি কানাডার জাতীয় ঐক্য এবং ফেডারেল কাঠামোর ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, আলবার্টার এই বিচ্ছিন্নতাবাদী উদ্যোগ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও এটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের আইনি ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই আন্দোলনের পরিণতি।