
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চমক তৈরি করেছে টালিগঞ্জ বিধানসভা আসনের ফলাফল। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা ও সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবার আর নিজের আসন ধরে রাখতে পারেননি। তিনি পরাজিত হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী-এর কাছে।
সোমবার (৪ মে) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পাপিয়া অধিকারী পেয়েছেন ৮৮,৪০৭ ভোট, যেখানে অরূপ বিশ্বাস পেয়েছেন ৮২,৩৯৪ ভোট। অর্থাৎ ৬,০১৩ ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন তৃণমূলের এই প্রভাবশালী নেতা। গত নির্বাচনে প্রায় ৫০ হাজার ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও এবার সেই চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরাজয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো বিরোধী ভোটের সমন্বয়। বিশেষ করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) বা সিপিএম প্রার্থী প্রায় ৩০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন, যা তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ‘মেসি-কাণ্ড’। গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বখ্যাত ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি কলকাতা সফরে এলে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন-এ ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ছিল, টিকিট কেটে আসা হাজার হাজার দর্শক মেসিকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাননি।
সেই সময় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি পুরো সময় মেসির সঙ্গে থাকলেও সাধারণ দর্শকদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন। ফলে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ক্ষোভই ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, মেসি ইস্যু সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে ভোটারদের মনোভাব বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে এই বিষয়টি আলোচিত ছিল।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই কটাক্ষ করে লিখছেন, “মেসিকে দেখতে দেননি, তাই মানুষ এবার তাকে বিধানসভায় ঢুকতে দিল না।” আবার কেউ কেউ মজার ছলে বলছেন, “মেসির পাস থেকেই গোল দিয়ে জিতল বিজেপি।”
তবে শুধুমাত্র মেসি ইস্যুই নয়, স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, বিরোধী ভোটের বিভাজন এবং শাসক দলের প্রতি কিছুটা অসন্তোষ—সবকিছু মিলিয়েই এই ফলাফল এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সব মিলিয়ে, টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের এই পরাজয় শুধু একটি আসনের ফল নয়, বরং এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিবর্তিত জনমতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ইস্যুগুলো যে ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো এই ফলাফলের মাধ্যমে।a