
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকারের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে জেলা প্রশাসকদের কার্যকর ভূমিকার ওপর। মাঠ পর্যায়ে তারা সরাসরি কাজ করেন এবং নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ভূমি অধিগ্রহণ বড় একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তিনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অগ্রগতি কম ছিল, সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের গতি বেড়েছে।
সড়ক শৃঙ্খলা রক্ষায় রাস্তার দুই পাশ দখল, সড়কের ওপর বাজার বসানো, অতিরিক্ত পণ্যবাহী যান চলাচল, অবৈধ বিলবোর্ড এবং অনিয়ন্ত্রিত স্পিড ব্রেকারের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের আরও কঠোর হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নদী ও সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলক্রসিং দুর্ঘটনা ও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ঈদকে সামনে রেখে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে আঞ্চলিক ও জেলা সড়কে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে কাজ করছে।
সবশেষে মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো ছাড়া সড়ক খাতে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা আনা সম্ভব নয়।