প্রিন্ট এর তারিখঃ May 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 4, 2026 ইং
অর্ধেক অপারেশন করেই উধাও চিকিৎসক, লালমনিরহাটে ক্লিনিক ঘেরাও

লালমনরিহাটে ‘আয়েশা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এক রোগীর হাত অর্ধেক অপারেশন করে চিকিৎসক পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় জনতা ওই ক্লিনিকটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন। লালমনিরহাট জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অবস্থিত ওই ক্লিনিক।
রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২ মে লালমনিরহাট সদর উপজেলার জনৈক এক রিকশাচালকের হাতের টিউমার অপারেশনের জন্য ওই আয়েশা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েম নিজেই অপারেশন করার দায়িত্ব নেন। দুপুর ২টায় রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডা. সায়েম ওটি থেকে বেরিয়ে এসে জানান, টিউমারটি হাতের রগের সাথে জড়িয়ে আছে, যা অপারেশন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর তিনি রোগীকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করার পরামর্শ দিয়ে তড়িঘড়ি করে ক্লিনিক থেকে সটকে পড়েন।
ভুক্তভোগী রোগীর ভাতিজা অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তার সায়েম আগে রিপোর্ট দেখে বলেছিলেন তিনি এই অপারেশন করতে পারবেন। কিন্তু ওটি-তে হাতের কবজি অর্ধেক কাটার পর তিনি বলেন এটা তার দ্বারা সম্ভব না। তার অদক্ষতার কারণে আমার চাচার হাত এখন পঙ্গু হওয়ার পথে। তিনি একজন এনেসথেসিয়া ডাক্তার হয়ে কেন সার্জারি করতে গেলেন? আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তিনি আরও জানান, রোগী একজন দরিদ্র রিকশাচালক এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকের পক্ষ থেকে কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা না পেয়ে তারা ক্লিনিক ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. সায়েম মূলত একজন এনেসথেসিস্ট হলেও অধিক মুনাফার লোভে জেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত সার্জন হিসেবে অপারেশন করে থাকেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও মাঝপথে অপারেশন রেখে পালিয়ে যাওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিসিক এলাকায় অবস্থিত ব্যক্তি মালিকানাধীন এই ক্লিনিকে এ ধরনের অপেশাদার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে আয়েশা ক্লিনিকের মালিক সুমন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এসময় দেখা গেছে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা।
ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক সুমন ও অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. সায়েমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল হাকিম জানান, কোনো এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের পক্ষে পূর্ণাঙ্গ সার্জারি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস, কে সাহেদ, লালমনিরহাট।
০১৭১৭৪১৩৬৫৪, ৪ মে'২০২৬
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দ্যা ডেইলি কসমিক পোষ্ট । বাংলা