
দেশের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা এক রিটের পর হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, এসব অফিসে পাবলিক ডিসপ্লেসহ উচ্চমানের (হাই ডেফিনিশন) সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে রুলে প্রশ্ন তোলা হয়েছে—সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোকে ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ও কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
এ বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আইনসচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, দেশের একটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা বাড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেন তার অফিসে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা এবং মূল ফটকের পাশে মনিটর স্থাপন করেন। এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয় এবং গণমাধ্যমেও তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এই উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আল মামুন সাগর গত ২৬ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসি ক্যামেরা ও পাবলিক ডিসপ্লে স্থাপনের দাবি জানানো হয়, পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়।
তবে নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি পরিচালনা করেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো ভূমি ও সম্পত্তি নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে দুর্নীতি ও দালাল চক্রের প্রভাব বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকর হলে সেবা প্রক্রিয়া আরও জবাবদিহিমূলক হবে।
হাইকোর্টের এই রুলকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে কেন এ ধরনের প্রযুক্তি নির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, রুলটি দেশের ভূমি প্রশাসন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।