
বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সুখবর এসেছে। এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ছাড় করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীরা সোমবার (৪ মে) থেকে নিজ নিজ ব্যাংক শাখা থেকে এই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
রবিবার (৩ মে) অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য চারটি পৃথক চেক প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব চেক দেশের বিভিন্ন বণ্টনকারী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে দ্রুত অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করা যায়।
চেকগুলো পাঠানো হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড-এর প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ব্যাংক লিমিটেড ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড-এর স্থানীয় কার্যালয়ে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীরা সোমবার থেকে নিজ নিজ ব্যাংক শাখায় গিয়ে বেতন-ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদরাসা শিক্ষা খাতে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এ ধরনের বেতন ছাড় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, অনেকেই তাদের মাসিক জীবনযাপন ও পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য এই অর্থের ওপর নির্ভরশীল।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বেতন প্রদান শিক্ষক-কর্মচারীদের মনোবল বাড়ায় এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে। বিশেষ করে বেসরকারি মাদরাসাগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি অংশের বেতনই অনেক সময় প্রধান আয়ের উৎস হয়ে থাকে।
এদিকে, বেতন ছাড়ের এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেতন প্রদান নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা অনেকাংশে কমে যাবে।
অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, মাসের শুরুতেই বেতন হাতে পাওয়া গেলে পরিবার পরিচালনা, সন্তানের শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
অধিদপ্তরের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও একই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং বেতন প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
সব মিলিয়ে, এপ্রিল মাসের বেতন ছাড়ের এই ঘোষণা মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।