
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। সোমবার সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ নিহত শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গ্রহণের সময় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে অপর নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লিমনের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে জানানো হয়, লিমনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই দাফন সম্পন্ন হবে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি শুরু হয় গত ১৬ এপ্রিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী—জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—নিখোঁজ হন। নিখোঁজ হওয়ার আট দিন পর, ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। পরে কয়েকদিনের ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে ৩০ এপ্রিল বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘেরহেকে। ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি আদালত-এ দাখিল করা নথিতে বলা হয়েছে, লিমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুটি প্রথম-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আইনে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। আগামী বুধবার বাদ জোহর তার জানাজা শেষে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে কাজ করছে।
নিহত দুই শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন, আর বৃষ্টি পড়াশোনা করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যু পরিবার, সহপাঠী এবং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশ সরকারের এই সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ থেকে আশা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী দ্রুত তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারও ন্যায়বিচার পাবে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।