
ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ সোমবার (৪ মে) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত শিশুটির বয়স ছিল মাত্র ৭ মাস এবং তার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২৮ এপ্রিল শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২৩ জন শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৯ জন শিশু ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ২৪ জন শিশু, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। চিকিৎসা শেষে ইতোমধ্যে ৯৬৩ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামের রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।
হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শিশুদের চিকিৎসার জন্য একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে, যেখানে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের টিকা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং তাদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা জরুরি।
অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শিশুর শরীরে জ্বর, র্যাশ, কাশি বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেরি হলে রোগের জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসা নেওয়া—এই দুইটি পদক্ষেপই হতে পারে হামের মতো সংক্রামক রোগ থেকে শিশুদের রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।