
দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় নাইজেরীয় নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে সামনে এসেছে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত নাইজেরিয়ার ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করেছে নাইজেরিয়া সরকার।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হবে। নাইজেরিয়া মনে করছে, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভের সময় নাইজেরীয় নাগরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য আফ্রিকান দেশের অভিবাসীরাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নাইজেরীয়দের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহব্যাপী চলা এসব সংঘর্ষে অন্তত দুইজন নাইজেরীয় এবং চারজন ইথিওপীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও আরও কয়েকটি আফ্রিকান দেশের নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নাইজেরিয়া সরকার এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের কাছে তারা স্পষ্টভাবে জানতে চাইবে কেন বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার বৃহৎ দুই অর্থনৈতিক শক্তি নাইজেরিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে এমন উত্তেজনা পুরো মহাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অভিবাসী শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তারা চাইছে এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ তদন্ত হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত নাইজেরীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর আন্দোলন নতুন নয়। অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও সামাজিক অসন্তোষের কারণে মাঝে মাঝে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের সহিংসতা দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে সোমবারের বৈঠকের ফলাফলের ওপর। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।