
সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহামূল্যবান নিয়ামত এবং একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্ব। প্রতিটি পিতা-মাতার ইচ্ছা থাকে তাদের সন্তান যেন সৎ, নৈতিক ও সঠিক পথে পরিচালিত হয়। তবে বর্তমান সময়ের নানা প্রভাব, পরিবেশ ও চ্যালেঞ্জের কারণে অনেক সময় সন্তানের আচরণে পরিবর্তন বা বিচ্যুতি দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র শাসন, উপদেশ বা কঠোরতা সবসময় কার্যকর হয় না। কারণ মানুষের অন্তরের পরিবর্তন একমাত্র মহান আল্লাহই ঘটাতে পারেন। তাই সন্তানের সংশোধন ও হেদায়াতের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।
পবিত্র কোরআন-এ সন্তানের কল্যাণ ও সংশোধনের জন্য একটি সুন্দর দোয়া উল্লেখ রয়েছে, যা প্রতিটি পিতা-মাতার জন্য অত্যন্ত উপকারী।
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَ اَصْلِحْ لِي فِي ذُرِّيَّتِي ۖ إِنِّي تُبْتُ إِلَيْكَ وَإِنِّي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
রাব্বি আওঝিনি আন আশকুরা নিমাতাকাল্লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা, ওয়া আন আ‘মালা সালিহান তারদাহু, ওয়া আসলিহ লি ফি জুররিয়্যাতি; ইন্নি তুব্তু ইলাইকা ওয়া ইন্নি মিনাল মুসলিমিন।
হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন, যাতে আমি আপনার দেওয়া নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি—যে নেয়ামত আপনি আমার এবং আমার পিতা-মাতার ওপর দান করেছেন। আর আমাকে এমন সৎকাজ করার তাওফিক দিন, যা আপনি পছন্দ করেন। এবং আমার জন্য আমার সন্তান-সন্ততিদের সংশোধন করে দিন। নিশ্চয়ই আমি আপনার দিকেই ফিরে এলাম এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
(সূরা: সূরা আহকাফ, আয়াত: ১৫)
এই দোয়াটি শুধু সন্তানের জন্যই নয়, বরং একজন মানুষের নিজের সংশোধন, কৃতজ্ঞতা ও সৎকর্মের দিকেও আহ্বান জানায়। এতে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে নিজের এবং নিজের সন্তানের জন্য কল্যাণ কামনা করেন।
বিশেষভাবে এখানে “ওয়া আসলিহ লি ফি জুররিয়্যাতি” অংশটি সন্তানের সংশোধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে পিতা-মাতা আল্লাহর কাছে তাদের সন্তানের সঠিক পথপ্রাপ্তি কামনা করেন।
এই দোয়াটি আপনি যেকোনো সময় পড়তে পারেন। তবে নামাজের পর, তাহাজ্জুদে বা দোয়া কবুলের বিশেষ সময়ে পড়লে এর গুরুত্ব আরও বাড়ে।
প্রতিদিন নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহর রহমতে সন্তানের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি সন্তানদের জন্য ভালো পরিবেশ তৈরি করা, সঠিক শিক্ষা দেওয়া এবং নিজের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করাও জরুরি।
সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করা শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি ইবাদতও বটে। তাই শুধুমাত্র বাহ্যিক চেষ্টা নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য কামনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন। ইনশাআল্লাহ, তিনি আপনার সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করবেন এবং তাদের জীবনে কল্যাণ দান করবেন।