
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোটি টাকার বেশি মূল্যের ওষুধ কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম, নিম্নমানের ওষুধ সরবরাহ এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মতো বিষয় জড়িত রয়েছে।
এই অভিযোগ সামনে আনেন ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. কায়সার হাসান খান। রবিবার (৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ডা. কায়সার হাসান খান দাবি করেন, ইডিসিএল (Essential Drugs Company Limited) এর বাইরে দরপত্রের মাধ্যমে বেশি দামে নিম্নমানের ওষুধ কেনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ওষুধ কোনো স্বীকৃত কোম্পানির নয় এবং মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ঠিকাদারের মাধ্যমে এই ওষুধগুলো কেনা হয়। তবে মূল্য ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিষয়টি জানার পর তিনি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে ওই ওষুধ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান তাকে চাপ প্রয়োগ করেন এবং এক পর্যায়ে তথ্য গোপনের বিষয়ও স্বীকার করেন। বিষয়টি তাকে আরও সন্দিহান করে তোলে।
ডা. কায়সার বলেন, এই অনিয়মের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত চলাকালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তার দাবি, গত ৭ এপ্রিল তদন্ত কমিটি যখন ঘটনাস্থলে যায়, তখন বহিরাগত প্রায় দুই শতাধিক মানুষ তাকে ঘিরে মব ভায়োলেন্সের সৃষ্টি করে। তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি বাধ্য হয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পরে নিরাপত্তার কারণে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে দূরে চলে যান।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থে কেনা ওষুধে এমন জালিয়াতি শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিক দিক থেকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ অর্থ এভাবে অপব্যবহার করা হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।
এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অন্যদিকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, তাই এ নিয়ে এখন কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তিনি “মিথ্যা ও বানোয়াট” বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় এবং স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন অনিয়মের অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এদিকে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকে এখন সবার নজর। কারণ, এই প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে—কোথায় অনিয়ম হয়েছে এবং কারা এর জন্য দায়ী।
সব মিলিয়ে, গফরগাঁওয়ের এই ঘটনা স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে আবারও সামনে এনেছে।