
যুক্তরাষ্ট্রের Florida অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় ও ভয়াবহ করে তুলেছে।
ঘটনার শুরু হয় সেন্ট পিটার্সবার্গ উপকূলে, যেখানে এক জেলে মাছ ধরার সময় হঠাৎ তার ছিপ একটি ঝোপে আটকে যায়। সেটি ছাড়াতে গিয়ে তিনি ঝোপের ভেতরে প্রবেশ করলে তীব্র দুর্গন্ধ পান। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে একটি কালো প্লাস্টিক ব্যাগ দেখতে পান তিনি। সন্দেহ হলে ব্যাগটি খুলে দেখেন—ভেতরে রয়েছে মানুষের দেহাবশেষ। সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে দেহটি অনেকটাই পচে যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তদন্তকারীরা নিখোঁজ হওয়ার সময় বৃষ্টির পরনের পোশাকের সঙ্গে মিল খুঁজে পান। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষা এবং দাঁতের রেকর্ড যাচাই করে নিশ্চিত করা হয় যে এটি বৃষ্টির মরদেহ।
তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো—এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। অভিযুক্ত হিশাম আগেই হত্যার নানা পদ্ধতি সম্পর্কে অনলাইনে খোঁজ করেছিলেন। যদিও তিনি নিজের ফোন থেকে তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করেন, ফরেনসিক বিশ্লেষণে সেই তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এতে তার অপরাধের প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পুলিশ আরও জানায়, বৃষ্টির মরদেহ একটি গাড়িতে করে উপকূল এলাকায় আনা হয় এবং পরে ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়, যাতে সহজে কেউ খুঁজে না পায়। তবে শেষ পর্যন্ত এক সাধারণ জেলের মাধ্যমে পুরো ঘটনাটি সামনে চলে আসে।
বর্তমানে অভিযুক্ত হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১৬ এপ্রিল বৃষ্টি ও আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজ হন। এর কিছুদিন পর, ২৪ এপ্রিল লিমনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। ফলে এই দুটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থাগুলো।
এই ঘটনা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা এবং অপরাধ প্রতিরোধ—এই বিষয়গুলো আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।