
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে হতাশার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি বলেছেন, তেহরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম এবং পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
রোববার ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান গত কয়েক দশকের কর্মকাণ্ডের জন্য এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি। তাই তাদের প্রস্তাবকে সহজভাবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি কোনো ধরনের ‘অসদাচরণ’ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।
এই বক্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে ইরানের প্রস্তাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করার কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও এই অচলাবস্থা বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। এই পথ বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নৌ-অবরোধের কারণে আংশিকভাবে ব্যাহত। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এই আইনের আওতায় ইসরায়েলি জাহাজের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং ‘শত্রু’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে।
এতে করে শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্রুত কোনো সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বরং দুই দেশের কড়া অবস্থান এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।