
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শহরের বিবেক বিহার এলাকার একটি আবাসিক ভবনে। রোববার (৩ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোর সাড়ে তিনটার দিকে ভবনটিতে আগুন লাগে। তখন বেশিরভাগ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা আতঙ্কে পড়ে যান। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
দুর্ঘটনার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভবনের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নকশাগত ত্রুটি। ভবনটিতে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল এবং কোনো জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। এছাড়া ভবনের এক পাশে লোহার গ্রিল থাকায় অনেক বাসিন্দা বাইরে বের হতে পারেননি।
আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, ভবনের ছাদে যাওয়ার সিঁড়ির দরজাটি তালাবদ্ধ ছিল। ফলে অনেকেই ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আটকে পড়েন। তীব্র ধোঁয়া ও গরমে তারা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুন লাগার পর তা পাশের আরেকটি ভবনেও ছড়িয়ে পড়ে। দুই ভবনের মাঝে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনের ভেতর থেকে নারী ও শিশুদের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। অনেকেই জানালা দিয়ে সাহায্যের জন্য হাত নাড়ছিলেন। কেউ কেউ জীবন বাঁচাতে ভবনের সামনে দিক থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করলেও অধিকাংশই বের হতে পারেননি।
উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালান। তবে আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে জরুরি নির্গমন পথ না থাকা এবং ছাদের দরজা তালাবদ্ধ থাকা এই দুর্ঘটনাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
এই ঘটনার পর ভবন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসিক ভবনে ফায়ার সেফটি নিয়ম কঠোরভাবে মানা না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
এদিকে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।