
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের জানাজা আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভোলায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণার পর ছাত্রদল, যুবদল ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠের আশপাশে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ওই মাঠে জানাজা না দেওয়ার দাবি জানান। এতে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিক্ষোভকারীরা মাঠে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি তুলে ধরেন। পরে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগ নেন। তাদের মধ্যস্থতায় বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে সরে যান এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২২ সালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলম নিহত হওয়ার পর তার জানাজা ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সে সময়কার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা ক্ষুব্ধ এবং সেই কারণেই একই মাঠে তোফায়েল আহমেদের জানাজা আয়োজনের বিরোধিতা করেছেন।
এ ছাড়া বিক্ষোভকারীরা আরও অভিযোগ করেন, তোফায়েল আহমেদ তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। এসব কারণেই তারা ওই মাঠে তার জানাজা দেখতে চান না বলে জানান।
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যু এবং তার শেষ বিদায়কে ঘিরে এমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিভাজনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তবে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জেলা বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নেতাকর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানান। তাদের হস্তক্ষেপের পর বিক্ষোভকারীরা মাঠ ছেড়ে চলে যান এবং জানাজা আয়োজনের প্রস্তুতি অব্যাহত থাকে।
তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিচিত একটি নাম। স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকা এই নেতা সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তার জানাজা ঘিরে ভোলার এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, কিছু সময়ের উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে।