
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বাঘড়ি বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মনি আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদ গলি এলাকার ওই ভাড়া বাসার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
নিহত মনি আক্তার রাজাপুর উপজেলার বামনকাঠি এলাকার বাসিন্দা খলিলুর রহমানের মেয়ে। তার স্বামী নুর উদ্দিন ঝালকাঠি জেলা পুলিশের একজন কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে জানা গেছে, তিনি গত প্রায় ছয় মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, এই দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এছাড়া মনি আক্তার তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী নুর উদ্দিন তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যরা আরও দাবি করেন, প্রায়ই টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হতো এবং দাম্পত্য জীবনে নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।
নিহতের ভাই ওমর ফারুক বলেন, মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্বামী নুর উদ্দিন মোবাইল ফোনে দাবি করেছেন ভিন্ন কথা। তার ভাষ্যমতে, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর তিনি ভয়ে সন্তানকে নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহ দেখে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি নিশ্চিত নয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবার যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে আইনগতভাবে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। একদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ, অন্যদিকে স্বামীর আত্মহত্যার দাবি—এই দুই ভিন্ন বক্তব্যের কারণে পুরো ঘটনাটি এখন রহস্যে ঘেরা।
স্থানীয়রা মনে করছেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। তবে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর মৃত্যু হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।