
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে মার্কিন স্বল্পমূল্যের বিমান পরিষেবা সংস্থা Spirit Airlines। ৩৪ বছরের দীর্ঘ পথচলার পর সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় স্পিরিট এয়ারলাইন্স চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।
স্পিরিট এয়ারলাইন্স ইতোমধ্যে একাধিকবার দেউলিয়া সুরক্ষা (bankruptcy protection) থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সংকটের কারণে সংস্থাটি আবারও গভীর আর্থিক সমস্যায় পড়ে।
শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ফলে কোম্পানিটি আর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৭ হাজার কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। শুধু পাইলট ও কেবিন ক্রু নয়, গ্রাউন্ড স্টাফসহ পুরো এয়ারলাইন অপারেশন বিভাগই প্রভাবিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এভিয়েশন শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে, কারণ তাদের লাভের মার্জিন তুলনামূলকভাবে কম।
স্পিরিট এয়ারলাইন্স দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রুটে কম খরচে যাত্রী পরিবহনের জন্য জনপ্রিয় ছিল। তবে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার কারণে সেই ব্যবসায়িক মডেল টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আরও বিমান সংস্থা একই ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, স্পিরিট এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।