
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের (measles) প্রাদুর্ভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু ব্যাঘাত এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে।
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। নিয়মিত টিকাদান থাকলে এই রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং কিছু মৃত্যুর ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এসব তথ্য এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে যাচাই ও বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization এবং UNICEF দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের জন্য নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনায় সহায়তা করে আসছে। তাদের মতে, টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে বা কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটলে হামসহ প্রতিরোধযোগ্য রোগ আবারও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন দেশে টিকা গ্রহণের হার কিছুটা কমেছে। করোনা মহামারির সময় অনেক দেশে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব এখনো কিছু অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সাধারণত নির্দিষ্ট বয়সে হাম-রুবেলা টিকার ডোজ দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশকে রোগমুক্ত রাখা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে শুধু টিকা নয়, বরং অপুষ্টি, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে রোগী চাপ বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে শিশু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বেড না থাকায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব আরও জটিল হতে পারে।
তবে এখনো পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এটি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।