
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একটি আনারসবোঝাই মিনি ট্রাকের চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-এর ঢাকাগামী লেনে টিপরদী এলাকার চৈতী গার্মেন্টসের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঁচপুর হাইওয়ে থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ। তিনি জানান, গভীর রাতে দ্রুতগতিতে চলা একটি মিনি ট্রাক অজ্ঞাত একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
নিহতদের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বরিশালের মুলাদী থানার সেকান্দার আলীর ছেলে মিনি ট্রাকচালক মোহাম্মদ আলী (৩৬) এবং খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি এলাকার খালেক খলিফার ছেলে ফল ব্যবসায়ী মনির হোসেন (৩২)। তারা দুজনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মিনি ট্রাকটি আনারস বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ট্রাকটি যখন টিপরদী সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায়, তখন সেটি তার সামনে থাকা অজ্ঞাত একটি পরিবহনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কাটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ট্রাকটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
সংঘর্ষের পর ট্রাকের ভেতরে থাকা চালক এবং ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। পরে তারা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দূরত্ব বজায় না রাখার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, “চলন্ত অবস্থায় মিনি ট্রাকটি অজ্ঞাত একটি গাড়িকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক ও আনারস ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রেখেছি এবং নিহতদের স্বজনরা ইতোমধ্যে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।”
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের মহাসড়কে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে গভীর রাতে পণ্যবাহী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি এবং আইন প্রয়োগ জোরদার করা জরুরি। একইসঙ্গে চালকদের সচেতনতা বাড়ানো না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে, সোনারগাঁয়ের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে গেছে। এখন সবার প্রত্যাশা—দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে