
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোলার মেঘনা নদী-তে মিলছে বড় আকারের ইলিশ, যা জেলেদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সম্প্রতি এই নদীতে ধরা পড়েছে দুটি বড় আকারের ‘রাজা ইলিশ’, যা স্থানীয় মাছঘাটে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি মাছঘাট-এ এই লেনদেন সম্পন্ন হয়। জেলে ইউসুফ মাঝি মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এই বড় দুটি ইলিশসহ আরও বেশ কিছু ছোট ইলিশ ধরতে সক্ষম হন।
ইউসুফ মাঝির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেদিন নিয়মিতভাবে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নদীতে যান। জাল ফেলতেই হঠাৎ বড় আকারের দুটি ইলিশ ধরা পড়ে, যা স্থানীয়ভাবে ‘রাজা ইলিশ’ নামে পরিচিত। এছাড়াও তার জালে ধরা পড়ে ছোট আকারের আরও অনেক ইলিশ।
ধরা পড়া দুটি বড় ইলিশের সম্মিলিত ওজন ছিল প্রায় ২ কেজি ৭০০ গ্রাম। এই মাছ দুটি ঘাটে আনার পর নিলামে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। একইসঙ্গে ছোট ইলিশগুলোও আলাদা করে প্রায় ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে সক্ষম হন তিনি। ফলে একদিনেই বেশ ভালো আয় হয়েছে বলে জানান ইউসুফ মাঝি।
এই মাছ দুটি কিনেছেন স্থানীয় আড়তদার মো. মনজু ইসলাম। তিনি জানান, বড় আকারের ইলিশের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। তাই তিনি এই মাছ দুটি ১০ হাজার টাকায় কিনেছেন এবং মোকামে এগুলো ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে বড় আকারের ইলিশের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ক্রেতারাও বড় ইলিশ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, ফলে দামও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মো. ইকবাল হোসেন, ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জানান যে গত দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে নদীতে ইলিশের সংখ্যা এবং আকার—দুটিই বেড়েছে। তিনি বলেন, এই ফলাফল প্রমাণ করে যে সরকারের নেওয়া সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ সফল হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত চালু থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যাবে এবং জেলেদের আয়ও বাড়বে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক মাছ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মেঘনা নদী বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যাতে ইলিশ প্রজননের সুযোগ পায়। এই নিষেধাজ্ঞার সুফল হিসেবে এখন নদীতে বড় ও পরিপক্ব ইলিশ ধরা পড়ছে।
স্থানীয় জেলেরা বলছেন, তারা যদি নিয়ম মেনে মাছ ধরার এই সময়সূচি অনুসরণ করেন, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। এতে করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, ভোলার মেঘনায় ধরা পড়া এই দুই ‘রাজা ইলিশ’ শুধু একটি বেচাকেনার ঘটনা নয়, বরং এটি ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের সফলতার একটি উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।