
সকালের নাস্তা কিংবা ডায়েট মেনে চলার ক্ষেত্রে সেদ্ধ ডিম অনেকেরই প্রথম পছন্দ। সহজলভ্য ও পুষ্টিকর হওয়ায় প্রতিদিনের খাবার তালিকায় এর গুরুত্ব অনেক। তবে অনেকেই সময় বাঁচাতে আগে থেকেই ডিম সেদ্ধ করে রেখে দেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সেদ্ধ ডিম কতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ থাকে?
এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স-এর খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা আক্তার।
বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সেদ্ধ ডিম বেশি সময় বাইরে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম সেদ্ধ করার পর সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার মধ্যে তা খেয়ে ফেলা উচিত। এর বেশি সময় পার হলে ডিমে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—এই জীবাণু থাকলেও ডিমের গন্ধ বা চেহারায় অনেক সময় কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। ফলে অজান্তেই তা খেলে পেটের সমস্যা বা খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে এই ২ ঘণ্টা ডিম নিরাপদ রাখার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে—ডিম খোসাসহ থাকতে হবে এবং ডিম ও সংরক্ষণ পাত্র দুটোই শুকনো থাকতে হবে।
যদি আপনি সেদ্ধ ডিম পরে খাওয়ার জন্য রাখতে চান, তাহলে অবশ্যই সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে পুরোপুরি সেদ্ধ ডিম ফ্রিজে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে আধা-সেদ্ধ ডিম ২ দিনের বেশি রাখা নিরাপদ নয়।
এছাড়া খোসা না ছাড়িয়ে রাখাই সবচেয়ে ভালো। যদি খোসা ছাড়িয়ে রাখতে হয়, তাহলে একটি এয়ারটাইট পাত্রে রেখে তার বাইরে ভেজা কাপড় জড়িয়ে রাখা যেতে পারে, যাতে ডিম শুকিয়ে না যায়।
ফ্রিজে রাখা ডিমে কখনো কখনো হালকা গ্যাসের গন্ধ হতে পারে, যা স্বাভাবিক। তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে সেই ডিম খাওয়া উচিত নয়—
এই লক্ষণগুলো ডিম নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
অনেকেই সেদ্ধ ডিম কেটে বা কুচি করে সংরক্ষণ করেন, যা ঠিক নয়। এতে ডিমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দ্রুত নষ্ট হয়। এছাড়া সেদ্ধ ডিম কখনোই ডিপফ্রিজে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে ডিমের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।
সবশেষে বলা যায়, সেদ্ধ ডিম একটি পুষ্টিকর খাবার হলেও ভুলভাবে সংরক্ষণ করলে তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই সঠিক নিয়ম মেনে ডিম সংরক্ষণ ও গ্রহণ করলে যেমন পুষ্টি বজায় থাকবে, তেমনি আপনি থাকবেন নিরাপদ।