
রেইনবো নেশন’ বা বিভেদহীন একটি বাংলাদেশ গড়তে খালেদা জিয়া-র আদর্শই পথচলার মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্ম কখনো হিংসা বা বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য নয়, বরং মানবকল্যাণের পথ দেখানোর জন্যই এসেছে।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার-এ বাংলাদেশ বৌদ্ধ ফেডারেশন আয়োজিত বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া যে ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন, সেখানে একটি ‘রেইনবো স্টেট’ বা রংধনু রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন তুলে ধরা হয়েছিল। সেই দর্শন অনুসরণ করেই একটি সহনশীল, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে তার দল।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি গৌতম বুদ্ধ-এর জীবন ও দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গৌতম বুদ্ধ পৃথিবীতে এসেছিলেন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অসত্য দূর করার বার্তা নিয়ে। তার অহিংসা ও মানবতার বাণী আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধ, সহিংসতা এবং মারণাস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতায় বিশ্ব যখন অস্থির, তখন বুদ্ধের শান্তির বার্তা আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। মানবিক সমাজ গড়তে হলে হিংসা ও যুদ্ধকে একযোগে ‘না’ বলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, অতীতে প্রতিবার বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে গুলশানে খালেদা জিয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। এই অনুষ্ঠানে এসে তার সেই স্মৃতি বারবার মনে পড়ছে বলে জানান তিনি। রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার মতো মানবিক ও দায়বদ্ধ নেতৃত্ব বিরল বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, কিন্তু জাতীয় পরিচয় হবে এক—আমরা সবাই বাংলাদেশি। এই চেতনা থেকেই একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়ে তোলা সম্ভব।
ধর্মকে বিভেদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মকে ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি করে। অথচ কোনো ধর্মই হত্যা বা সহিংসতাকে সমর্থন করে না। আধুনিক ও শিক্ষিত সমাজ হিসেবে এসব সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ করে পাহাড়ি ও সমতলের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রতি আগ্রহের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের এই মনোভাব দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সব মিলিয়ে, বুদ্ধ পূর্ণিমার এই আয়োজনটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানই নয়, বরং সহনশীলতা, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।