
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।
The Washington Post, ABC News এবং Ipsos-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা একটি ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত ছিল।
শনিবার (২ মে) CNN-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনের যুদ্ধকালীন নীতির ওপর জনগণের অসন্তোষ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে এবং এই জরিপ তারই প্রতিফলন।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা—সবকিছু মিলিয়ে জনগণের মধ্যে এ ধরনের মনোভাব তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই জরিপের সঙ্গে অতীতের বড় যুদ্ধগুলোর জনমতের একটি ঐতিহাসিক মিলও খুঁজে পাওয়া গেছে। ২০০৬ সালের মে মাসে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছিল, Iraq War নিয়ে ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এটিকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেছিলেন।
এছাড়া, ১৯৭১ সালে Gallup পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, প্রতি ১০ জন মার্কিনির মধ্যে প্রায় ৬ জন Vietnam War-কে একইভাবে ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। বর্তমান ইরান ইস্যুতে জনমতের এই অবস্থান সেই সময়গুলোর সঙ্গে তুলনীয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই জরিপে বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ভুল মনে করছেন। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৭১ শতাংশ একই মত পোষণ করেছেন।
তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এই হার তুলনামূলকভাবে কম। সেখানে মাত্র ১৯ শতাংশ এই যুদ্ধকে ভুল বলে মনে করছেন। অর্থাৎ, রাজনৈতিক দলভেদে জনমতের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের জনমত সরকারের ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনমুখী সময়ে এ ধরনের জরিপ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের এই নেতিবাচক মনোভাব দেশটির নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় বার্তা হয়ে উঠছে। এটি শুধু বর্তমান পরিস্থিতিই নয়, ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।