
ঈদুল ফিতরের পর দেশের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের জন্য নতুন চমক হিসেবে মুক্তি পেয়েছে দুটি ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র—‘আতরবিবিলেন’ ও ‘মানুষটিকে দেখ’। শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে এই দুটি ছবি, যেখানে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সংগ্রাম এবং কল্পনাশ্রিত উপাদান।
প্রথম সিনেমা ‘আতরবিবিলেন’ পরিচালনা করেছেন মিজানুর রহমান। রাজধানীর উত্তরার ম্যাজিক মুভি থিয়েটারসহ একাধিক হলে ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় গল্প এক সাধারণ নারীর জীবনসংগ্রামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। কাহিনিতে দেখা যায়, পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঢাকায় আসা এক তরুণী নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যায়। শহরে এসে তার পরিচয় হয় এক পেশাদার খুনির সঙ্গে, যার ফলে তার জীবনে একের পর এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে থাকে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে ভিন্ন মোড় নেয়।
পরিচালকের ভাষায়, ‘আতরবিবিলেন’ মূলত “আতর” নামের এক নারীর “আতর বিবি” হয়ে ওঠার গল্প। এই চরিত্রটির শরীর থেকে আতরের ঘ্রাণ বের হয় এবং তার মধ্যে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি সিনেমাটিতে বস্তির রাজনীতি, সামাজিক টানাপোড়েন এবং শহুরে জীবনের কঠিন বাস্তবতাও তুলে ধরা হয়েছে। ছবির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফারজানা সুমি, যেটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় চলচ্চিত্র। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন মোস্তফা প্রকাশ, রাশেদ মামুন অপু, আশীষ খন্দকার, এলিনা শাম্মী, সানজিদা মিলা, জয়রাজ, পারভেজ সুমন, ফরহাদ লিমন, কাজী উজ্জল, সকাল ও সীমান্তসহ আরও অনেকে।
অন্যদিকে, রাজধানীর ব্লকবাস্টার সিনেমাসে মুক্তি পেয়েছে গাজী রাকায়েত পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মানুষটিকে দেখ’। এই সিনেমাটি সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী একটি মানবিক গল্প নিয়ে নির্মিত। এতে মূলত সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং তাদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও কুসংস্কারকে তুলে ধরা হয়েছে।
গল্পে দেখা যায়, ফরিদা নামের এক তরুণী শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে সমাজের অবহেলার শিকার হলেও কখনো দমে যান না। বরং তিনি একই অবস্থার মানুষের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যান। এই সংগ্রামী জীবনের মধ্যেই তার পাশে দাঁড়ায় পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা তরুণ ফিরোজ। ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক গভীর হয় এবং একসময় তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে ভালোবাসার সম্পর্কও।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রাশনা শারমিন কেমি, তাহমিদ আরেফিন হক, তারিক আনাম খান, মিলি বাশার, মামুনুর রশীদ, রহমত আলী, গাজী রাকায়েত, শতাব্দী ওয়াদুদ, লারা লোটাস, কাজী নওশাবা ও রাজীব সালেহীনসহ অনেকে।
এই দুই সিনেমার মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রে আবারও ভিন্নধর্মী গল্প বলার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। একদিকে অতিপ্রাকৃত ও সামাজিক বাস্তবতার মিশ্রণ, অন্যদিকে মানবিক সংগ্রাম ও প্রতিবন্ধিতা নিয়ে নির্মিত গল্প—দুই ভিন্ন ধারা দর্শকদের সামনে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে।