
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর পারিবারিক ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিজের বড় মেয়ের জন্য পছন্দ করা হবু জামাইয়ের হাত ধরে পালিয়ে গেছেন মা রিমি খাতুন (৩৫)। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চর-ত্রিবেণী গ্রামে এবং এরপর থেকেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় যুগ আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রিমি খাতুনের সঙ্গে শৈলকুপার চর-ত্রিবেণী গ্রামের গাড়ি চালক রাশেদ আলীর (৩৮) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। জীবিকার প্রয়োজনে রাশেদ আলী প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন, আর এই সুযোগে পরিবারের ভেতরে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটতে থাকে বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে টিকটকের মাধ্যমে পার্বতীপুর গ্রামের মামুন হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় রিমি খাতুনের। ওই যুবক নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এই পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে রিমি খাতুন নিজের বড় মেয়ের বিয়ের জন্য ওই যুবক মামুন হোসেনকেই পছন্দ করেন। তবে বিষয়টি পরিবারে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মা এবং হবু জামাইয়ের মধ্যে অতিরিক্ত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ আচরণ লক্ষ্য করে মেয়েটি এই বিয়েতে আপত্তি জানায়। বিষয়টি পরিবারে বিরোধ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, এসব ঘটনার মধ্যেই হঠাৎ করে রিমি খাতুন ওই যুবকের সঙ্গে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বামী রাশেদ আলী। ঘটনার পর তিনি শৈলকুপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা করছেন। কেউ কেউ এটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের প্রভাব হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে পারিবারিক ভাঙনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত চলছে।
এদিকে এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে টিকটকসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে ওঠা এবং তার পরিণতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সম্পর্কের সীমারেখা অতিক্রম করলে এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন, এবং প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।