
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য নিজের নাম, ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তার অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর, ভুয়া এবং মানহানিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিনেতার আইনজীবী বৈভব গগ্গরের মাধ্যমে আদালতে জানানো হয়, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নাগা চৈতন্যের নাম ও ছবি ব্যবহার করে এমন কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে তাকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এতে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম অভিনেতার নামকে অশালীন ও আপত্তিকর সার্চ টার্মের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের ট্রাফিক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া অডিও ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে আদালতে বলা হয়, কিছু পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত কনটেন্টেও নাগা চৈতন্যের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে তার বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে “প্রতারণার অভিযোগ” সম্পর্কিত ট্রল ও মিথ্যা তথ্যও ব্যাপকভাবে ছড়ানো হচ্ছে।
নাগার আইনজীবী আদালতে বলেন, এগুলো কোনো ন্যায্য সমালোচনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহননের চেষ্টা। বিচারপতি জ্যোতি সিং এই মামলার শুনানি করছেন। আদালতে কয়েকটি আপত্তিকর ইউটিউব ভিডিওর অংশও উপস্থাপন করা হয়।
প্রযুক্তিগত অপব্যবহার রুখতে এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই মামলাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপফেক ও এআই কনটেন্টের অপব্যবহার ভবিষ্যতে সেলিব্রিটিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নাগা চৈতন্য। এই মামলা ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার গুরুত্ব আরও একবার সামনে এনেছে।