
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শুরু হচ্ছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা। এই উদ্যোগে ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে China।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে এই যাত্রা পুনরায় চালু হওয়ায় তারা ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের স্বাগত জানাচ্ছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়, তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের কাংরিনবোকে ফেং এবং মাপাম ইউকো (কৈলাস মানস সরোবর) এলাকায় তীর্থযাত্রা আবার শুরু হয়েছে।
চীন জানিয়েছে, এ বছর তারা মোট ১০০০ ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই উদ্যোগকে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Mount Kailash এবং Lake Mansarovar হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। বিশ্বাস করা হয়, এই স্থানে ভগবান শিবের বাসস্থান রয়েছে। পাশাপাশি বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছেও এই স্থানটির বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে এই যাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আয়োজন চীনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এই বছর মোট ২০টি দল তীর্থযাত্রায় অংশ নেবে। প্রতিটি দলে থাকবে ৫০ জন করে যাত্রী। এর মধ্যে ১০টি দল যাবে উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস দিয়ে, এবং বাকি ১০টি দল সিকিমের নাথু লা পাস ব্যবহার করবে।
India ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এই তীর্থযাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও কূটনৈতিক সংযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও এই যাত্রা বহুবার বন্ধ ও পুনরায় চালু হয়েছে।
এবারের আয়োজনকে তুলনামূলকভাবে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হয়েছে। পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখন অনলাইনে সম্পন্ন হবে। আবেদন থেকে শুরু করে যাত্রী নির্বাচন—সবকিছুই ডিজিটাল সিস্টেমে পরিচালিত হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগ্রহীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। কোনো কাগজপত্র পাঠানোর প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে যাত্রা সম্পর্কিত তথ্য, মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য ফিডব্যাক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যাত্রা শুধু ধর্মীয় নয়, বরং ভারত-চীন সম্পর্ক উন্নয়নের একটি প্রতীকী ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করে। সীমান্ত বিরোধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এমন উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
প্রতি বছর সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তীর্থযাত্রা পরিচালিত হয়। বৈধ পাসপোর্টধারী ভারতীয় নাগরিকরা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে এই যাত্রায় অংশ নিতে পারেন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় শুরু হওয়া এই কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা আধ্যাত্মিক পর্যটন ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।