
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রায় ৪০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রল জব্দ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম আহমেদ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কিছু এলাকায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
জানা গেছে, উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের ভটখালী গ্রামের একটি বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। বাড়িটি মৃত সমশের আলী দেওয়ানের ছেলে আমজাদ হোসেনের বলে জানা যায়। সেখানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় প্রশাসন।
অভিযানে প্রায় ৪০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রল জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আমজাদ হোসেনকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসন জানায়, জ্বালানি তেল মজুদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব নিয়ম উপেক্ষা করে অবৈধভাবে তেল মজুদ করেছিলেন।
পরবর্তীতে জব্দ করা তেল যোগীপাড়া ইউনিয়নের যাতাপুকুর বাজারে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করা হয়। বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং সেখানে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অবৈধ মজুদ তৈরি না হয়।
তিনি আরও জানান, জ্বালানি তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের অবৈধ মজুদ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তাই প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি জ্বালানি তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এবং অনেক সময় অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয়রা বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তারা নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেল একটি সংবেদনশীল পণ্য, যা সরাসরি পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতের সঙ্গে যুক্ত। তাই এর সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা জরুরি।
সর্বশেষ এই অভিযান আবারও প্রমাণ করেছে যে, অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি রোধে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হলে বাজারে শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।