
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে— এমন আশঙ্কার মধ্যে ইরান পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর নতুন কোনো হামলা হলে তা ‘দীর্ঘস্থায়ী ও বেদনাদায়ক’ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে।
যদিও ৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এখনো হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর কাছে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে নতুন করে সামরিক হামলার বিভিন্ন বিকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রণালির কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা এসেছে। দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়—তা যত সীমিতই হোক না কেন—তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী ও বেদনাদায়ক হামলা চালানো হবে।
ইরানের মহাকাশ বাহিনীর কমান্ডার Majid Mousavi-ও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতে যেমন মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমন হামলা হতে পারে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, ইরান তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Mojtaba Khamenei হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বিদেশি শক্তির উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmail Baghaei জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে সময় লাগবে।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে United Arab Emirates তাদের নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যারা ইতোমধ্যে এসব দেশে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres সতর্ক করে বলেছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এবং দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বব্যাপী অনুভূত হবে।