
অসময়ে ভয়াল রূপ ধারণ করেছে Padma River। ভরা বর্ষা আসতে এখনও সময় বাকি থাকলেও বৈশাখের শুরুতেই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র নদীভাঙন।
গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একরের পর একর ফসলি জমি। বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার তীব্র স্রোতে তীরের মাটি ধসে পড়ছে। ভাঙনের কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, বাজার ও সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়া এলাকার প্রধান সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
ভাঙনের শিকার লোকমান সরদার জানান, তিনি ইতোমধ্যে চারবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন। তার ভাষায়, ধান-পাট সব ভেসে যাচ্ছে, এখন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা না হলে অস্তিত্বই টিকবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন ৮০ বছর বয়সী সামাদ সরদার। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করা এই বৃদ্ধ বলেন, বর্গা চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেটিও এবার নদীগর্ভে হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ জরুরি। তবে তা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, নদীভাঙন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হলেও এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং বাজেট বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আরও বড় পরিসরে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে এলাকা।