
বিশ্বজুড়ে অনলাইনের অন্ধকার দিক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আত্মহত্যায় ব্যবহারের জন্য বিষ ও সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত এক কানাডীয় নাগরিক আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের নিউমার্কেট আদালতে শুক্রবার (২৯ মে) হাজির হয়ে ৬০ বছর বয়সী কেনেথ ল আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করেন। তিনি একসময় প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করলেও পরে টরন্টোর একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজ করেন বলে জানা গেছে।
তদন্তে উঠে আসে, তিনি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আত্মহত্যাপ্রবণ বা ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের কাছে প্রাণঘাতী বিষাক্ত উপাদান ও সরঞ্জাম সরবরাহ করতেন। এসব উপাদান ব্যবহার করে কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, কানাডার বাইরে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডসহ অন্তত ৪১টি দেশের মানুষের কাছে তিনি এসব ‘আত্মহত্যার বিষের প্যাকেট’ পাঠান। মোট প্রায় ১,২০০টি প্যাকেট বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি আদালতে স্বীকার করেন, অন্টারিওতেই অন্তত ১৪ জনের মৃত্যুর সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যে পাঠানো উপাদানের মাধ্যমে বহু মৃত্যুর অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।
২০২৩ সালে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালতে আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করায় কিছু অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।
যুক্তরাজ্যের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সেখানে এক সাংবাদিক ক্রেতা সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কীভাবে বিষ ব্যবহার করলে মৃত্যু নিশ্চিত হবে সে সম্পর্কেও নির্দেশনা দেন বলে জানা যায়।
বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত তদন্তে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তার সাজা ঘোষণা করা হতে পারে।
এই ঘটনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবৈধ পণ্য বিক্রি ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।