
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে নেওয়া এই উদ্যোগ ঈদের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করেছে, বিশেষ করে যেসব মানুষ কোরবানি দিতে পারেননি তাদের জন্য এটি ছিল এক বিশেষ প্রাপ্তি।
আইএবি মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, ঈদের প্রথম দিনেই রাজধানীর মুগদা থানা সংলগ্ন এলাকা, হাজারীবাগের শাহী মসজিদ এলাকা এবং খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকায় গোশত বিতরণ করা হয়। এসব এলাকায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে কোরবানির গোশত পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু প্রথম দিনেই সীমাবদ্ধ না থেকে ঈদের দ্বিতীয় দিনেও এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। দ্বিতীয় দিনে ওয়ারী এলাকায় দুস্থ ও কোরবানি দিতে না পারা মানুষের মাঝে গোশত বিতরণ করা হয়। এতে করে আরও অনেক মানুষ ঈদের আনন্দে শামিল হওয়ার সুযোগ পান।
গোশত বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা শেখ ফজলুল করীম মারুফ। তিনি বলেন, সমাজের সব স্তরের মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোরবানি দিতে না পারা মানুষের কাছেও সম্মানজনকভাবে গোশত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও জানান, যদি তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত হন, তাহলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় প্রতিটি নাগরিকের কাছে কোরবানির গোশত পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে করে ভবিষ্যতে ঈদের সময় কোনো মানুষই বঞ্চিত থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই উদ্যোগ শুধু একটি দাতব্য কার্যক্রম নয়, বরং এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ঈদের সময় ধনী-গরিবের ভেদাভেদ দূর করে সবার মাঝে আনন্দ ভাগাভাগি করার যে মূল বার্তা, সেটিকেই বাস্তব রূপ দিয়েছে ইসলামী আন্দোলনের এই কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অনেকেই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন কার্যক্রম নিয়মিত হলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে ঈদের মতো উৎসবে এই ধরনের সহায়তা মানুষের মাঝে এক ধরনের মানসিক স্বস্তি ও আনন্দ নিয়ে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়, বরং তা হলো আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা এবং সমাজের দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ইসলামী আন্দোলনের এই উদ্যোগ সেই চেতনাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
সব মিলিয়ে, রাজধানীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই গোশত বিতরণ কর্মসূচি ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।a