
যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহাকে কেন্দ্রীয় সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণার দাবি আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। এই দাবির ভিত্তিতে ২৭ মে মার্কিন কংগ্রেসে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যা দেশটির মুসলিম নাগরিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিলটি যৌথভাবে উত্থাপন করেন নিউ ইয়র্কের ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য Grace Meng এবং ইন্ডিয়ানার কংগ্রেস সদস্য Andre Carson। তারা আগেও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালেও “Eid Day Act” নামে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল, তবে সেই সময় প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় সেটি পাস হয়নি। এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনমত পরিবর্তনের কারণে বিলটি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
নতুন এই উদ্যোগে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুইটি—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—কে কেন্দ্রীয়ভাবে সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। গ্রেস মেং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে মুসলমানদের অবদান অপরিসীম। তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া অনেক আগেই প্রয়োজন ছিল। তিনি আরও জানান, বিলটি আইনে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে মুসলিম আমেরিকানদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী রাজনীতিতে মুসলিম ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক সিটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে, যেখানে প্রথম মুসলিম-আমেরিকান মেয়র হিসেবে Zohran Mamdani নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন দেখা গেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনে ঈদের দিন মুসলমানদের জন্য ছুটি বা ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০১৫ সাল থেকে দুই ঈদের দিন ছুটি কার্যকর আছে। পাশাপাশি মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, ইলিনয় এবং ভার্জিনিয়ার মতো রাজ্যগুলোতে মুসলিম শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য ঈদের দিন ঐচ্ছিক ছুটির সুবিধা রয়েছে।
নতুন বিলটি যদি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসে পাস হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯০ লাখেরও বেশি মুসলমানের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হবে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক স্বীকৃতি এবং সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তির দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় বৈচিত্র্য ক্রমশ বাড়ছে এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতি দেওয়ার প্রবণতাও শক্তিশালী হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ঈদকে কেন্দ্রীয় ছুটি ঘোষণার উদ্যোগ শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক সমতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।