
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে। সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও চামড়ার দামে কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন খুচরা বিক্রেতা, ব্যবসায়ী ও মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা।
জেলা শহরের ফকিরপাড়া এলাকার প্রধান কাঁচা চামড়া ক্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, গরুর চামড়া আকার ও মানভেদে প্রতি পিস ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার দাম ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে, যা প্রায় মূল্যহীন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফকিরপাড়ার চামড়া আড়তের ক্রেতা ইমরান আলী বলেন, বর্তমান বাজারদরে চামড়া কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি জানান, ভ্যান ভাড়া, লবণ, শ্রমিক খরচ ও পরিবহন ব্যয় যোগ করলে অনেক ক্ষেত্রেই চামড়া আনা-নেওয়ার খরচও উঠে আসছে না। তবুও অনেকে বাধ্য হয়ে চামড়া বিক্রি করছেন কম দামে।
জেলা শহরের হুজরাপুর এলাকার বাসিন্দা জুবাইর হোসেন ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে এসে জানান, কম দাম হলেও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গরিবদের হক আদায় করতেই তারা চামড়া বিক্রি করছেন। তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে দাম নির্ধারণ করেছে তা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও ট্যানারির সক্ষমতা বিবেচনায় বর্তমান দামে চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, লবণ, সংরক্ষণ, শ্রম, গুদামজাতকরণ ও পরিবহন খরচ দিন দিন বাড়ছে। ফলে মফস্বল পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়ছেন। ঢাকার বাইরে অনেক ব্যবসায়ী সরকারের নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার সক্ষমতা রাখেন না।
চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম হোসেন জানান, এবছর লবণের দামও বেড়েছে, যা চামড়া সংরক্ষণের খরচ আরও বাড়িয়েছে। এতে বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং লাভের সম্ভাবনা কমে গেছে।
স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসার প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, তারা সকাল থেকে চামড়া সংগ্রহ করলেও বাজারদর নিয়ে হতাশ। পাঠানাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা পরিচালক মো. আমানুল্লাহ বলেন, এবারের দামও আগের বছরের মতোই হতাশাজনক এবং কোনো স্থিতিশীলতা নেই।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় চামড়া পাচার রোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পাচারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চামড়া বাজারে এবারের ঈদেও স্থিতিশীলতা ফেরেনি। উৎপাদক, সংগ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা সবাই লোকসান ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।