
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে রংপুর নগরজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ঈদের নামাজ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে আদায়ের লক্ষ্যে নগরীর কেন্দ্রীয় কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও রংপুর সিটি করপোরেশন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় রংপুরের কেন্দ্রীয় কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে টানা বৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে নগরীর কাচারীবাজার মডেল মসজিদে একই সময়ে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন-নবী ডন জানান, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই মুসল্লিরা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ঈদগাহ মাঠে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প জামাত আয়োজনের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
এদিকে ঈদ উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে শেষ মুহূর্তের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, মাইকিং, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোরামতিয়া মসজিদসহ নগরীর প্রায় আড়াই হাজার মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ঈদের প্রধান জামাতকে কেন্দ্র করে রংপুর মহানগরী ও জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে র্যাব-১৩ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে প্রধান ঈদগাহ, পশুর হাট, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে র্যাবের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা, চুরি, ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশ এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশিক্ষিত বোম্ব ডিসপোজাল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম হয়। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানিয়েছেন, এবার জেলার আটটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৮৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০টি ঈদগাহে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
তিনি বলেন, ঈদুল আজহাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রধান ঈদগাহ মাঠে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নগরজুড়ে পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।