
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের অগ্রগতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রামের অধিকাংশ চালু পোশাক কারখানায় ইতোমধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) বিজিএমইএর পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ১৩৩টি পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৭৯৪টি এবং চট্টগ্রামে ৩৪০টি কারখানা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেছে মোট ২ হাজার ১১৭টি কারখানা। শতাংশের হিসেবে যা ৯৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৭৮৩টি এবং চট্টগ্রামের ৩৩৪টি কারখানায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে মোট ২ হাজার ২১টি কারখানা। যা মোট চালু কারখানার ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৭০৯টি এবং চট্টগ্রামে ৩১২টি কারখানা শ্রমিকদের বোনাস দিয়েছে।
বিজিএমইএ আরও জানিয়েছে, মে মাসের অগ্রিম বেতনও পরিশোধ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৬৭টি কারখানা অগ্রিম বেতন দিয়েছে, যা মোট কারখানার ৩৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
ঈদকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা ছাড়ার বিষয়েও তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। ২৪ মে রাজধানী ছেড়েছেন ১০৮টি পোশাক কারখানার কর্মীরা। আগামী ২৫ ও ২৬ মে যথাক্রমে ৬৬৪টি এবং ৭৭১টি কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা ছাড়বেন বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া ২৭ মে আরও ২৫১টি পোশাক কারখানার কর্মীরা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হবেন। ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কারখানাও ধাপে ধাপে ছুটি দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
পোশাক খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে প্রতি বছরই বাড়তি গুরুত্ব থাকে। বিজিএমইএর এই তথ্যকে শ্রমিকদের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।