
বিশ্ব এখন জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট ও ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক চাহিদার ওপর। উচ্চ দামের কারণে অনেক দেশ ও শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবহার কমে যেতে পারে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও ধীর করে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকারি নীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তও এই সংকটকে আরও প্রভাবিত করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরান সংশ্লিষ্ট সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে বলে আইইএ প্রধান উল্লেখ করেন। এই ঘাটতি বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেল সরবরাহে এই ধরনের বড় ঘাটতি শুধু বাজার মূল্যেই প্রভাব ফেলবে না, বরং পরিবহন, উৎপাদন এবং শিল্প খাতেও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হতে পারে, যেখানে আমদানি নির্ভরতা বেশি।
ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন আর শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, এটি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সরবরাহ চেইন ব্যাহত হলে খাদ্য উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশকে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জ্বালানি দক্ষতা উন্নত করাও এই সংকট মোকাবিলার গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে।
বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো ইতোমধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। কারণ তেলের বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আইইএ প্রধানের এই সতর্ক বার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক অগ্রাধিকারের শীর্ষে উঠে এসেছে।