
শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে স্বাভাবিকভাবে রক্ত দ্রুত জমাট বেঁধে থেমে যায়। কিন্তু যদি দেখা যায় সামান্য আঘাতেও রক্তপাত দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ হচ্ছে না, তাহলে সেটি একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে—যার নাম হিমোফিলিয়া।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হিমোফিলিয়া হলো একটি বংশগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ। এই রোগে শরীরের রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে সামান্য আঘাতেও অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে।
মানবদেহে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য কিছু বিশেষ প্রোটিন থাকে, যেগুলোকে ‘ক্লটিং ফ্যাক্টর’ বলা হয়। হিমোফিলিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রোটিনের মধ্যে বিশেষ করে ফ্যাক্টর-৮ এবং ফ্যাক্টর-৯ এর ঘাটতি থাকে। ফলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না।
এ রোগ শুধু বাহ্যিক রক্তক্ষরণই নয়, শরীরের ভেতরেও রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে, যা অনেক সময় লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
হিমোফিলিয়ার কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো দেখে প্রাথমিকভাবে রোগটি শনাক্ত করা যেতে পারে—
হিমোফিলিয়া সাধারণত একটি জিনগত বা বংশগত রোগ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরা এই রোগের বাহক হন, আর পুরুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। পরিবারে এই রোগের ইতিহাস থাকলে সন্তানের মধ্যে ঝুঁকি বেশি থাকে।
হিমোফিলিয়া পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত ক্লটিং ফ্যাক্টর ইনজেকশন নেওয়ার মাধ্যমে রোগীর রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা উন্নত করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময়মতো চিকিৎসা নিলে রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে জীবনধারায় কিছু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও প্রাথমিক শনাক্তকরণ হিমোফিলিয়া নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।